Monday, September 16, 2013

বাংলা

সবুজের ডাকে,
শরীরটাকে সমর্পণ করছি দূর্বা ঘাসে।
দেহ মিশিয়েছি মাটির সাথে।
প্রাণটাকে বাতাসে।

দেখি বৃষ্টির জল পাতা ছুয়ে পড়ে নদির জলে;
টুপ টুপ টুপ...।
হাওয়া পাতা নাড়ে।
বৃক্ষ নাচে নৃত্যের তালে।

হৃদয় কাপে,
এ চোখে জল জড়ে মুক্তির অনুভবে।

আমি ভাবি তাদের,
যারা এ বাংলায় এসেছিল আমার আগে।
জন্মেছিল, কথাবলেছিল বাংলায়।
তাই জীবন বন্ধক রেখেছিল মাটির কাছে।

ঘাসে তাদের প্রানের ঘ্রান;
মাটিতে দেহের।
এইতো আমি বাঙালী হয়েছি, যেটা হওয়ার শখ ছিল খুব।

কবে সেই বাঙালীদের বাংলাদেশ হবে?
ধর্মের ভিবক্তি শেষে,
আমরা বাঙালী এটাই পরিচয় রবে।

বৃত্তের উপর ঘর, তাঁর একটি দরজা।
দরজা খুলতেই হয় দু-ভাগ।
এসো ঘরে ডুকি, দরজা বন্ধ করি না খোলার ইচ্ছেয়।

Sunday, June 30, 2013

সুখি দিনের সুখ

বলব কি পথ;
বলব কি তোমার !
ঐ দেখ কিছুটা দূরে সে হেটে যাচ্ছে ।

বলব কি গাছ;
বলব কি তোমায় !
ঐ দেখ তোমার সখি তাকে হাওয়া দিচ্ছে ।

বলব কি বল পাখি;
সখা আমারও আছে ।
এইতো সে বলে গেল ভালোবেসেছে ।

এই দুপুরে, শব্দ নীরবে,
সে একা কেন পেল ?
চুপিচুপি সে আমায় এ কি বলে গেল ?

নীরব ছিল যে রত্ন,
তারে করেছি কত যত্ন ।
সেই তার বুলি হয়ে আমারে মারল ছুরি ।

ব্যাথায় আমি মরি ।
আমি সুখ পরী ।

স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন থাকবে ।
সত্যি কেন হবে ?
সুখগুলো কেন বল,
খুশিতে কাদাঁবে ?

সুখের রঙ নীল ।
সুখের রঙই লাল ।
কেন করলে প্রেমে তোমার এতোটা মাতাল ?

তোমার পথের মায়া আমার
বহুকালের ছিল ।
আজ সে মায়া তীব্রতর হল ।

ও হে বাচাল পথিক ?
একটু দেখ নাকো ।
মুচকি হাসিঁ সাজিয়ে আমি,
পিছু তাকিয়ে দেখ ।

আহ্ !
ভাবিগো এ বেলায়,
এ মন ছিল যে তোমার কত অপেক্ষায় ।

Thursday, June 27, 2013

জলের সমাপ্তি

নীল চিঠিটা কই ?
তাতে ভালোবাসা লেখা আছে ।
ডাইরিটা কই ?
তাতে চিঠিটা রাখা আছে ।

আমি আবেগ হারিয়েছি নাকি ?
নাহ্ ! সে চুড়ি করেছে ।
আমার আবেগগুলো কই ?
যা সে নিয়ে নিয়েছে ।

আমার আলমারিটা কই ?
যেটায় ডাইরিটা লুকানো ।
ডাইরির পাশে ছিল রাখা,
কিছু ফুল শুকনো ।

প্রেমগুলো কই ?
লুকোচুরির ছলে ।
সে গেল কই ?
আমাকে ভুলে ।

আমার হৃদয়টা কই ?
যেটা আমার মাঝে ছিল ।
আমার অশ্রুগুলি কই ?
ছিল চোখেতে লুকনো ।

আমার হাতটি কই ?
তার হাতের উপর রাখা ।
তার হাতটি কই ?
অন্যের হাতে রাখা ।

আমি ছলনায় পড়েছি ।
হয়েছে ভুল ।
বলতেই হয়,
চোখের জলে ভাসিয়েছি ফুল ।

আকাঁ প্রেম

আমায় স্পর্শ করেছে প্রিয়,
তোমার মায়ার অনুভূতি ।
একটু ছোয়াঁর ইচ্ছে,
যদি পায় অনুমতি ।

ইচ্ছেটা পুকুর ঘাটে;
শুধুই দুজনে ।
জলেতে হবে ঢেউ,
টুপটাপ বর্ষনে ।

দেখবো সেই ছেলেমানুষি,
কিভাবে হয় আড়াল ।
মায়ার বৃত্তে বন্দি করে,
কিভাবে কর মাতাল ।

আমিযে পথভুলা অচিন পাখি ।
তোমার নয়নে পথ খুজি ।
করি পথ সমাপ্তির মিনতি ।
বলি, মিনতি হবেকি কবুল ?

চারিদিক দেখি আবছা আধাঁর,
তোমাকেই দেখি ঠিক ।
একটু বলবে কি,
আমি আছি কোন দিক ?

আমি মায়ায় পরেছি সখি;
প্রেমে পরেছি ।
তোমার নয়ন বৃত্তে বন্দি হয়েছি ।

তাইতো ভেবে রেখেছি,
আছি ঝুম বৃষ্টির অপেক্ষায় ।
হোক বৃষ্টি;
তখন বলবো ভালোবাসি ।

প্রেমের নিমন্ত্রন

নিশি রাতের আলোকপাত,
প্রদীপের কিছু আলো ।

বাতাস স্রোতে নিভু নিভু সে;
যেন ভালোবাসায় নিষ্শেষ ।
তারা মেতেছে প্রেমে ।
তাই বাতাসের তালে এ নৃত্য তার ।

আমিও দেখছি ।
তুমিও দেখছ ।
জীবনহীন জীবন্ত প্রেম ।
তাদের মত তোমাতে বাধা এই জীবনের ফ্রেম ।

প্রদীপের আলোয় অপরুপ তুমি,
বাতাসের শীতলে মুগ্ধ ।
তোমাতে চেয়ে মনে মনে লিখি,
পদ্যের পর গদ্য ।

তোমার প্রতি ভালোবাসা আমার,
হবেনা কখনো শেষ ।
যত দীর্ঘ হয় জীবনখানি,
হলেও কভু শেষ ।

দেখবে আমার ভালোবাসা,
যদি অসুখে পর ।
চোখের জলে ভিজিয়ে রুমাল,
জলপট্টি দিব ।

যদিও জীবনখানি মরে যাবে;
শুকিয়ে যাবে ফুলের মত ।
পাবে সুভাস আজীবন ।
স্মৃতির পাতা নেড়ে দেখ,
করব নতুন নিমন্ত্রন ।

একটি জোনাকি

নিকস কালো নিশির মাঝে একটি জোনাকি ।
একাকি পথভুলা অবুঝ একটি পাখি ।

মিটি মিটি জ্বলছে আবার নিভে নিভে যাচ্ছে ।
কিসের যেন শব্দ আসে কিছু কি বলছে ?

হয়তো বা ।
হয়তো না ।
তবে লাগছে খুবি ভালো !
চারিদিক এতো কালোর মাঝে একটু খানি আলো ।

উড়ে বেড়ায় কেমন করে একটু বিন্দু আলো !
মানুষ না হয়ে হলে জোনাক, হত কতই ভালো ।

উড়ে-উড়ে বেড়াতাম, হতাম তার সঙ্গি ।
তার ডানা দুটো ছুয়ে দিতে করতাম কত ভঙ্গি ।

একই সাথে নিভে যেতাম চারিদিক করে কালো ।
আবার যখন জ্বলে উঠব লাগবে খুবি ভালো ।

হবেনা সে কল্প পূরণ, মানুষ আমি তাই ।
এখন এই কালো বনে একা সে আর নাই ।

পেয়েছে সে একটি সঙ্গি ঠিক তারি মত ।
জ্বলছে নিভছে একই সাথে কল্প তারার মত ।

খোকন বাবু


খোকন বাবু বসে একা,
মনটা ভালো নাই ।
মিষ্টি মেয়েটি বকেছে তাকে,
বলেছে গোবর ভাই ।

তাইতো খোকন যায়নি বাসায়,
খায়নি কোন কিছু ।
চারিদিক জুরে প্রজাপতিগুলো,
ফড়িং নিয়েছে পিছু ।

পাখি বলে, যাবে নাকি ?
যাবে আমার বাড়ি ?
ফুল বলে কাছে আসো,
না আসলেই আড়ি ।

ঘাস বলে একটু বস,
তাকাও আমার পানে ।
বলবো কথা তোমার সাথে,
বলব কানে কানে ।

ব্যাঙ বলে লাফ দিয়ে,
আসবে নাকি ঝাপ দিয়ে ?
বিড়াল যাবে নিয়ে,
আজ তার বিয়ে ।

ভোমর বলে আমি কালো,
কিন্তু পরীর মেয়ে ।
ডানায় চড়িয়ে তোমায় আমি,
আনব ঘুরিয়ে ।

বাতাশ আসে হনহনিয়ে ।
খোকন হাসেঁ ফেলফেলিয়ে ।
পৃথিবী জুড়ে আলো ।
খোকন বাবু, খোকন বাবু, সবার চেয়ে ভালো ।